আল্লাহপাক পাপ মিটিয়ে নেকী দান করেন

এই রমজান মাস কতই বরকতপূর্ণ মাস। এই মাসে কেঁদে কেঁদে আল্লাহর কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নিন। যে ব্যক্তি খালিছ দিলে তওবা করে আল্লাহ তা’য়ালা তাঁর পাপসমূহকে নেকীর মাধ্যমে পরিবর্তন করে দেন। যার প্রমাণ স্বয়ং কুরআনে কারীম। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সুরায়ে ফুরকানে ইরশাদ করেন-

إِلَّا مَن تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ عَمَلًا صَالِحًا فَأُوْلَئِكَ يُبَدِّلُ اللَّهُ سَيِّئَاتِهِمْ حَسَنَاتٍ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَّحِيمًا

যে ব্যক্তি তও করে এবং ঈমান আনয়ন করে ও সৎকাজ করে ঐ সমস্ত ব্যক্তিদের পাপকে আল্লাহ তা’য়ালা পূণ্যে পরিবর্তন করে দেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

একটি প্রশ্ন ও তার উত্তর:

উপরোক্ত আয়াতে একটি আমলী প্রশ্ন হয়। তা হলো তাওবা তো ঈমান থাকা অবস্থায় কবুল হয়। তাহলে আল্লাহ তা’য়ারা প্রথমত কেন إِلَّا مَن تَابَ বললেন অর্থাৎ তওবার কথা প্রথমে আর ঈমানের কথা পরে উল্লেখ করেছেন। অথচ উচিৎ ছিল প্রথমে ঈমানের কথা বলা এরপর তওবার কথা। হাকীমুল উম্মত মুজাদ্দিদে মিল্লাত হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.) বয়ানুল কোরআনে এর উত্তর এভাবে দিয়েছেন যে, প্রকৃতপক্ষে আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছে মুশরিকদের শানে। সুতরাং এর প্রকৃত রূপ হল من تاب عن الشرک যে প্রথমত: শিরক থেকে তওবা করেছে অতঃপর ঈমান আনয়ন করেছে। মুশরিক অবস্থায় যে প্রতিমার সামনে সেজদা করে আবার ঈমান আনয়নও করে তার ঈমান কী করে কবুল হতে পারে। অর্থাৎ আয়াতের মাঝে একথা বলা হয়েছে যে, শিরক থেকে তওবা করে ঈমান আনয়ন করলে ঈমান গ্রহণযোগ্য হবে অন্যথায় নয়।

হযরত মাও. ছানাউল্লাহ পানিপথি (রহ.) প্রণীত তাফসীরে মাজহারীতেও إِلَّا مَن تَابَ এর এরকমই ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: দয়া করে কপি করা থেকে বিরত থাকুন, ধন্যবাদ।