ওলী হওয়ার জন্য দুটি কাজ

بسم الله الرحمن الرحيم

 
ওলী হওয়ার জন্য দুটি কাজ
    (১) দৃষ্টির হেফাযত (২) অন্তরের সংরক্ষণ। যদি কোন সালিক (আধ্যাত্বিক সাধনায় রত ব্যক্তি) এই দুটি কাজ আঞ্জাম দেয় তাহলে ইনশাআল্লাহ, সে আল্লাহর ওলী হয়ে যাবে। অন্যান্য আমল তার জন্য সহজ হয়ে যাবে। অন্য সকল গুনাহ ছেড়ে দেয়া সহজ হবে। এই দুটি কাজ অধিক গুরুত্বপূর্ন। ১. সীমান্ত এলাকার সংরক্ষণ ২. দারুল খিলাফত তথা-কেন্দ্রীয় প্রশাসনের হেফাযত। একটু ভেবে দেখুন! শত্রুদল দুই রাস্তা দিয়ে এসে থাকে। হয়ত সীমান্ত এলাকা দিয়ে কিংবা সরাসরি দারুল খিলাফতের উপর আক্রমণ করে। এমনিভাবে আপনি যখন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বর্ণিত আদেশ অনুযায়ী চোখের সীমানা ও অন্তরের কেন্দ্রীয় প্রশাসনের হেফাযত করবেন তখন আপনার জন্য আল্লাহর ওলী ও বন্ধু হওয়ার পথ বড়ই সহজ হয়ে যাবে
 

    যে ব্যক্তি গুনাহ থেকে দৃষ্টি ও অন্তরকে বাঁচাল সে কি আবার মিথ্যা বলবে? যে ব্যক্তি জটিল প্রশ্নের সমাধান দিয়ে দিল সহজ প্রশ্নের সমাধান কি তার জন্য কঠিন হবে?
    হযরত মাও. রুমী (রহ.) বলেন, একটি উষ্ট্রী যার উপর বড় ধরনের ঢোল বাজানো হয়। (আগে নিয়ম ছিল যখন বাদশাহরা কোন প্রচার কার্য করাতে চাইতেন তখন উটচালক উটের পিঠে ঢোলের উপর কাঠ দিয়ে মারত এবং প্রচার করত যে, এটা বাদশাহ সালামতের ঘোষণা বা অমুক বাদশাহের নির্দেশ। সেই ঢোলের আওয়াজ দুই মাইল পর্যন্ত যেত) সেটি যখন কোন গ্রাম দিয়ে চলতে থাকে তখন সেখানকার ছোট ছোট শিশুরা হাতে তালি দিয়ে উটটিকে বিরক্ত করতে শুরু করে।
    মাও. রুমী (রহ.) বলেন, সেই উটটি তখন বলল, হে বালক দল! তোমাদের ছোট তালুর চটচট, পটপট ধ্বনি আমার কী এমন ক্ষতি করবে? আমার পিঠে যে ঢোল বাজে তার শব্দ দু মাইল পর্যন্ত পৌঁছে। আমার কান যখন এই কঠিন আওয়ায সহ্য করছে তখন তোমাদের হাতের সামান্য শব্দ তো আমার জন্য কিছুই না।
    তেমনি বান্দা যখন চোখ ও অন্তরের গুনাহ থেকে বাচেঁ তখন তার জন্য অন্য সকল গুহান থেকে বাঁচা সহজ হয়ে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: দয়া করে কপি করা থেকে বিরত থাকুন, ধন্যবাদ।