দৃষ্টি হেফাজতের পুরস্কার :: জীবনের লক্ষ্য

بسم الله الرحمن الرحيم

 
দৃষ্টি হেফাজতের প্রথম পুরস্কার
 
    দৃষ্টি হেফাজতের প্রথম পুরস্কার হলো মানসিক অস্থিরতা থেকে মুক্তি লাভ। কৃদষ্টি করার পর অশান্তি বৃদ্ধি পেতে থাকে অর্থাৎ দৃষ্টিকারী ভাবতে থাকে আহ! যদি তাকে পেতাম। আর যে দৃষ্টি হেফাজত করে তার থেকে এ ধরনের কোন শব্দই বের হবে না। কেননা সেতো দেখেইনি। তার কাছে আপন ঘরের চাকরী-রুটি অর্থাৎ নিজ স্ত্রী পোলাও-বিরিয়ানী মনে হবে এবং যে বলবে মহান আল্লাহ আপন অনুগ্রহে তাকে আমার স্ত্রী হিসেবে দান করেছেন।
 
    বলুন দেখি! যদি প্রেমিক মজনুর জন্য গোটা পৃথিবীর মহিলারা পোলাও-বিরিয়ানী পাঠাত আর তার প্রেমিকা লায়লা শুকনো রুটি পাঠাত তাহলে মজনু কার খাবার গ্রহণ করত? নিশ্চয় সে নিজ প্রেমিকা লায়লার খাবারই গ্রহণ করত এবং বলে বেড়াত শুকনো রুটি আমার লায়লার হাত থেকে এসেছে। তেমনি যে আল্লাহওয়ালা, সে নিজ স্ত্রীকে দুনিয়ার সকল নারীর তুলনায় উত্তম মনে করে এবং বলে এই স্ত্রী আমার প্রভু আমাকে দিয়েছেন। যাতে প্রশান্তির সাথে জীবন-যাপন করতে পারি। এতে তার ঘরে বয়ে যায় শান্তির ফল্গুধারা। এর বিপরীতে যারা চুপিসারে এদিক সেদিক অর্থাৎ বেগানা মহিলাদের দিকে তাকায়, তাদের ঘরে বরকত শূন্যতা, পেরেশানী ও ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকে। কেননা তার দৃষ্টিতে তো অন্য কেই প গেছে অর্থাৎ সেতো অন্যকারো প্রতি আসক্ত হয়ে গেছে। এ জন্য নিজের স্ত্রীকে তার কাছে ভালো লাগে না।
 
দৃষ্টি হেফাজতের দ্বিতীয় পুরস্কার
 
    দৃষ্টি হেফাজতের দ্বিতীয় পুরস্কার হলো ঈমানের মিষ্টতা ও স্বাদ লাভ করা। হাদীসে কুদসীতে আছে, হাদীসবিশারদগণ হাদীসে কুদসীর সংজ্ঞা এভাবে দিয়েছেন-
 
ھوالکلام الذي يبينہ النبي صلی اللہ عليھ وسلم وينسبھ الی ربھ
 
    হাদীসে কুদ্সী ঐ কালামে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা তাঁর মুখনিঃসৃত। তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একথা বলে দিবেন যে, আল্লাহ তায়ালা বলেন। (অর্থাৎ নিজের সঙ্গে সম্পৃক্ত না করে আল্লাহর দিকে সম্বন্ধ করবেন)। এমন হাদীসকে হাদীসে কুদসী বলে। মহানবী  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদীসে কুদসীতে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন দৃষ্টি কতইনা বিষাক্ত বস্তু! এটি ইবলীসের তীর
اِنَّ النَّظْرَ سَھْمٌ مِنْ سِھَامِ اِبْلِیْسَ مَسْمُوْمٌ
    হা নিশ্চয়ই দৃষ্টি শয়তানের তীরসমূহের মধ্য থেকে একটি বিষাক্ত তীর।
(কানযুল উম্মাল ৫ম খন্ড, ৩৩৮ পৃ:)

 

مَنْ تَرَ کَھَا مَخَافَتِیْ اَبْدَلْتُھُ اِیْمَانًایَجِدُ حَلَاوَتَھُ فِیْ قَلْبِھِ۔

 

    যে ব্যক্তি আমার ভয়ে নিজ অন্তর ও দৃষ্টিকে এই তীর থেকে বাঁচাবে আমি তাকে এর বিনিময়ে ঈমানের স্বাদ আস্বাদন করাব। অর্থাৎ, আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা দেন, আমার জন্য যে তার চোখের আনন্দকে উৎসর্গ করেছে আমি তাকে কী পুরস্কার দেব? এবং নিজেই উত্তর দেন, আমি তার অন্তরে ঈমানের মিষ্টতা ও স্বাদ দান করব।
 
    আল্লামা ইবনুল কাইয়ুম জাওযী রহ. বলেন, বান্দা দৃষ্টিশক্তি দিয়ে অন্তর্দৃষ্টি অর্জন করেছে بصارت (বাছারত) হলো দৃষ্টিশক্তি। بصیرت (বাছীরত) হল অন্তর্দৃষ্টি। অর্থাৎ সে আল্লাহর জন্য তার দৃষ্টিশক্তিকে কোরবান করেছে তার বিনিময়ে আল্লাহ তায়ালা তাঁর অন্তরে ঈমানী নূর দান করেছেন।
 
 
দৃষ্টি হেফাজতের তৃতীয় পুরস্কার
 
    প্রখ্যাত মুহাদ্দিস মোল্লা আলী কারী (রহ.) পূর্বে উল্লিখিত হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেন, যে ব্যক্তিকে আল্লাহ ঈমানের মিষ্টতা দান করেন তার মৃত্যু ঈমানের সাথে হবে। কেননা আল্লাহ তায়ালা ঈমানের স্বাদ আস্বাদন করিয়ে তা ছিনিয়ে নেন না। আর এটাই হলো দৃষ্টি হেফাজতের তৃতীয় পুরস্কার। তাই আজকাল রাস্তা-ঘাট, হাটবাজার, বিমানবন্দর ও রেলষ্টেশনের মত জায়গাগুলোতে যেসব মহিলা সামনে পড়ে যায় তাদের থেকে দৃষ্টি হেফাজত করে আল্লাহর নিকট থেকে ঈমানী মৃত্যু অর্জন করুন।
 وقدوردت ان حلاعۃالایمان اذادخلت قلبالایخرج منھ ابدا
    বর্ণিত আছে, ঈমানের মিষ্টতা যখন কোনো অন্তরে প্রবেশ করে, সেখান থেকে কখনো তা বের হয় না।
 
    মোল্লা আলী কারী (রহ.) বলেন, وفیھ اشارۃ الی بشارۃ حسن الخاتمۃ উল্লিখিত হাদীসে ঈমানের সাথে মৃত্যু হওয়ার প্রতি পরোক্ষ সুসংবাদ দান করা হয়েছে।
 
 
    আজকাল বাজারে-ঘাটে, এয়ারপোর্টে ও বিভিন্ন স্থানে ঈমানের মিষ্টতা বন্টন করা হয়। তবে মিষ্টতা ও স্বাদ পাওয়ার পূর্বশর্ত হলো এই চোখ দ্বারা মিষ্টান্নের দোকানের দিকে অর্থাৎ বেগানা নারীদের দিকে তাকানো যাবে না।
    যদি কোন ডায়াবেটিস রোগী মিষ্টির দিকে তাকায় তাতে তার সুগার বৃদ্ধি পাবেনা। কিন্তু নযরের মিষ্টান্ন অর্থাৎ বেগানা মহিলার দিকে তাকালে তা বিষাক্তরূপ ধারণ করবে
    হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি বেগানা মহিলাদেরকে শুধু দেখল, তাদের সাথে মিলন হয়নি তবুও এটা চোখের যিনা বা ব্যভিচার বলে গণ্য হবে। বুখারী শরীফের হাদীস, (হযরত উলামায়ে কেরামের কাছে দরখাস্ত আপনারা বুখারী শরীফ দেখে নেবেন)
زِنٰی الْعَیْنِ اَلنَّظْرُ۔
    কুদৃষ্টি হলো চোখের যিনা।- (বুখারী শরীফ, কিতাবুল ইস্তিযান) এ হুকুমের মধ্যে ঐ সকল কিশোর ছেলেরাও শামিল যাদের দাঁড়ি ও গোঁফ উঠেনি।
    সুতরাং চোখের যিনা করে আল্লাহর ওলী হওয়ার স্বপ্নদ্রষ্টাদের নিজের মাথায় আঘাত করা উচিৎ। আল্লাহর ওলী হওয়ার আকাঙ্খা তো সবারই আছে। কিন্তু চোখের গুনাহে লিপ্ত থেকে ওলী হওয়া কি সম্ভব?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: দয়া করে কপি করা থেকে বিরত থাকুন, ধন্যবাদ।