মুসাফিরদের তিন শ্রেণী :: জীবনের লক্ষ্য ::

 
    পার্থিব জগতে বিদেশ থেকে স্বদেশে গমনকারীরা সাধারণত তিন শ্রেণীর হয়ে থাকে (১) কিছু মানুষ নিজ দেশে বৈদেশিক মুদ্রাই সাথে করে নিয়ে যায় তাদের দেশে সেই মুদ্রার প্রচলন আছে  বলে। (২) কেউ কেউ সকল মুদ্রা দিয়ে আসবাবপত্র ক্রয় করে নিয়ে যায়। (৩) আবার কেউ কেউ মুদ্রা ও আসবাব উভয়টিই নিয়ে যায়এ কারণেই আমরা কাশ্মীর গিরিতে উঠলে চাদরের গায়ে “করাচী”‍‍ লেখা দেখতে পাই এবং চায়ের পেয়ালাগুলো দেখে করাচীরই মনে হয়
 
    মোটকথা, পার্থিব জগতে বিদেশ থেকে দেশে গমনকারীরা তিন শ্রেণীর হয়ে থাকে। (১) শুধু মুদ্রা নিয়ে যায় (২) শুধু আসবাবপত্র নিয়ে যায়। এ কারণে যে, এসব সামগ্রী গ্রামাঞ্চলে পাওয়া যায় না (৩) মুদ্রা ও আসবাবপত্র উভয়টিই নিয়ে যায়।
 
দুনিয়ার সামগ্রী আখেরাতের জন্য প্রয়োজনীয় নয়
    একথা বুঝে নিন যে, দুনিয়ার ভিসার মেয়াদ যখন শেষ হয়ে যাবে এবং আমাদেরকে আখিরাতের দিকে যেতে হবে তখন আমরা কিছুই সাথে নিয়ে যাব না। আচ্ছা, বলুন! এ পৃথিবীতে স্বাচ্ছন্দে বসবাসকারী লোকেরা দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়ার সময় কি কোন সামগ্রী সঙ্গে নিয়ে যায়? না রসদ ও মুদ্রা উভয়টি নিয়ে যায়? প্রকৃতপক্ষে এগুলোর কোনটিই নিয়ে যেতে পারে না।
    দুনিয়া থেকে মানুষের বিদায় আর মৃতদেহ কবরে রাখার দৃশ্য দেখে জনৈক কবি কতইনা চমৎকার বলেছেন,
شکريہ اےقبرتک پہنچانےوالوشکريہ
اب اکيلےہی چلے جائينگےاس منزل سےہم
 
“হাজারো কৃতজ্ঞতা হে বন্ধুগণ! তোমাদের তরে
এখন একাই চলেছি এই মঞ্জিল ছেড়ে”
অপর এক কবি বলেন- 
دباکےقبرميںسب چل د‎ۓدعانہ سلام
ذراسی ديرميںکياہوگیازمانےکو
“কবরে দাফন করে চললো সবাই
সময়ের ব্যবধানে কী যে হলো হায়!”  
    অর্থাৎ করবে দাফন করে সবাই চলে গেল, বিদায় বেলা কেউ সালামও দিল না, দোয়াও করল না।
 
    যারা সামনে পিছনে চলত ফিরত, কাপড় ধুয়ে দিত, তেল মালিশ করে দিত, পা টিপে দিত তারা সবাই আজ মাটি চাপা দিয়ে চলে গেল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: দয়া করে কপি করা থেকে বিরত থাকুন, ধন্যবাদ।