রাসূলে মাকবুল (সাঃ) এর চার কন্যা :

এ বিষয়ে উম্মতের সকলেই একমত যে, নবী (সাঃ) এর কন্যাদের মাঝে হযরত ফাতিমা (রা.) মর্যাদায় শ্রেষ্ঠ ছিলেন। নবী করীম (সাঃ) তাঁর মর্যাদা বর্ণনা করে বলেছেন যে, “সে জান্নাতি মহিলাদের প্রধান।”

তাঁর বিয়ে হয়েছিল পনের বছর সাড়ে পাঁচ মাস বয়সে হযরত আলী (রা.) এর সাথে। বিয়েতে মোহর নির্ধারিত হয়েছিল চারশ’ আশি দিরহাম, যা প্রায় একশ’ পঞ্চাশ ভরি ওজনের রূপার সমান। জান্নাতি মহিলাদের প্রধান, তাঁর বিয়ের যৌতুক কি ছিল?

একটি চাদর, একটি বালিশ, যার মধ্যে খেজুর গাছের ছাল ভরা ছিল, একটি চামড়ার গদি, একটি দড়ির খাটিয়া, একটি মশক (চামড়ার পানিপাত্র), দু’টি মাটির কলস দু’টি সুরাহী (চামড়ার ছোট মশক) এবং একটি যাঁতা।           -[তাবাকাতে ইবনে সা’দ ও অন্যান্য গ্রন্থ]

হযরত ফাতিমা (রা.) যাঁতা চালানো ও ঘরের অন্য সকল কাজকর্ম নিজ হাতেই করতেন। উভয় জাহানের সর্দার নবী করীম (সাঃ) এর সবচেয়ে প্রিয় কন্যার এ হলো বিয়ে, মোহর এবং যৌতুকের বিবরণ, আর তাঁদের দরিদ্র অবস্থায় জীবন যাপনের এ ছিল চিত্র! এসব দেখে কি সেসব মহিলা লজ্জা ও কুণ্ঠা বোধ করবেন না, যারা বিয়ে শাদীর রসম ও প্রথা রক্ষা করতে গিয়ে নিজেদের দ্বীন ও দুনিয়া বরবাদ করে দেন! নবী করীম (সাঃ) এর কোনো পুত্র-সন্তান বেঁচে থাকেনি, এতে আল্লাহ তা’আলার কোনো অপার রহস্য বিরাজ করছে। শুধু কন্যা-সন্তানদের দ্বারা দুনিয়াতে রাসূলে মাকবুল (সাঃ) এর বংশধারা বিস্তার লাভ করে। তাঁদের মাঝেও আবার হযরত ফাতিমা (রা.) এর সন্তানরাই শুধু বেঁচে থাকেন। অন্য মেয়েদের কারো কারো কোনো সন্তানই জন্মলাভ করেনি আর কারো সন্তান জন্ম নিয়েও বেঁচে থাকেনি।

হযরত যয়নাব (রা.) এর বিয়ে হয় হযরত আবুল আস ইবনুর রবী’ (রা.) এর সাথে। তাঁর একটি পুত্র-সন্তান জন্ম নিয়ে অল্প বয়সেই মারা যায়। তাঁর একটি কন্যা-সন্তানও জন্মলাভ করে, যার নাম ছিল উমামা। হযরত ফাতিমা (রা.)এর ইন্তেকালের পর হযরত আলী (রা.) কে বিয়ে করেছিলেন; কিন্তু উমামার ও কোনো সন্তান হয়নি।

হযরত রুকাইয়া (রা.) এর বিয়ে হয়েছিল হযরত উসমান (রা.) এর সাথে। হযরত ওসমান (রা.) যখন হাবশায় হিজরত করেন, তখন তিনিও সাথে ছিলেন। দ্বিতীয় হিজরিতে যখন নবী করীম (সাঃ) বদরের যুদ্ধ শেষে মদীনায় ফিরছিলেন, তখন হযরত রুকাইয়া (রা.) নিঃসন্তান অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। এরপর তৃতীয় হিজরিতে তাঁর বোন উম্মে কুলসুম (রা.) এরও বিয়ে নবী করীম (সাঃ) হযরত ওসমান (রা.) এর সাথেই দেন। এজন্যেই হযরত ওসমান (রা.) এর উপাধি ছিল ‘জিন্নুরাইন’ বা দু’টি নূরের অধিকারী। নবম হিজরীতে উম্মে কুলসুম (রা.) ও মারা যান। যে সময় হুযূরে আকরাম (সাঃ) ইরশাদ করেছিলেন, যদি আমার আরো কোনো মেয়ে থাকত, তাহলে আমি তারও বিয়ে এ ওসমানের সাথেই দিতাম। – [সীরাতে মুগলতাই, পৃষ্ঠা : ১৬-১৭]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: দয়া করে কপি করা থেকে বিরত থাকুন, ধন্যবাদ।