দার্শনিকদের আল্লাহ পরিচিতি

Compatibility of modern science with the Holy Quran

১। ইমামে আযম (রঃ)থেকে এক যিন্দিক এর ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। একদা এক যিন্দিক ইমাম সাহেবকে জিজ্ঞাসা করল যে, আল্লাহ একজন আছে আপনার কাছে তার কোন প্রমাণ আছে? ইমাম সাহেব (রঃ) উত্তরে বললেন, এখন যদি কেহ বলে ঐ নীল দরিয়ায় এমনিতে একটা নৌকা হয়ে গেছে এবং তা এমনিতে চলতে শুরু করেছে ও নিজে নিজে মানুষদেরকে পারাপার করছে এটাকি তুমি বিশ্বাস করবে? যিন্দিক বলল, বড্ড পাগল ছাড়া এমন কথা কেউ বলতে পারে না। ইমাম সাহেব (রঃ) বললেন তাহলে এই মহা বিশ্ব উর্ধ্বজগত ও অধঃজগত এবং এতদুভয়ের মধ্যবর্তী এই বিশাল সৃষ্টিরাজির কোন সৃষ্টিকর্তা ছাড়া প্রকাশ পেয়েছে এটাকি পাগলের কথা নয়।

২। ইমামে শাফেই (রঃ) থেকে আল্লাহর অস্তিত্ব সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তুতগাছের পাতা ও অন্যান্য গাছের পাতা দেখতে একই সবুজ একই স্তানে হয়ে থাকে। কিন্তু তুত গাছের পাতা দেখতে একই সবুজ একই স্থানে হয়ে যায় আর মধু পোকা আহার করলে তা মধু হয়ে বের হয়। ছাগল তা আহার করলে তা গোবর হয়। পক্ষান্তরে হরিণ আহার করলে তা মৃগনাভী কস্তুরী হয়ে বের হয়। অথচ বস্তু এক এই সুক্ষ্ম কারিগরি কার? নিশ্চিই এর পেছনে একজন কারীগর রয়েছেন। তিনিই সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ।

৩। ইমাম আহাম্মদ ইবনে হাম্বল (রঃ) থেকে স্রষ্টার অস্তিত্বের প্রমাণ চাইলে তিনি বলেন, একটি ডিম উপরদিক দিয়ে রুপার ন্যায় ভিতরদিক দিয়ে স্বর্ণের ন্যায় অথচ ভিতরে যাতায়াতের বিন্দু পরিমাণ জায়গাও নেই। তার ভিতর একটা বাচ্চা আলো বাতাশ ছাড়াই কিছুদিন থাকার পর তা আবার বিদীর্ণ হয়ে বাহিরে চলে আসে। আসিয়াই শত্রু মিত্রকে চিনতে সক্ষম হয়। তাকে এসব কে শিখাল? তিনিই হলেন একমাত্র সৃষ্টিকর্তা।

৪। এক চরকাওয়ারী বৃদ্যাকেজিজ্ঞাসা করা হল হে বুড়ি তুমিতো চরকা কেটে কেটে সারা জীবন শেষ করেছ, স্রষ্টার পরিচয়ও কি নিয়েছ? বুড়ি জবাবে বলেন, হ্যাঁ, এই চরকার মধ্যেই আল্লাহর পরিচিতি পেয়েছি, কারণ আমি যখন তা ঘুরাই তখন তা ঘুরে এবং যখন তা ছেড়েদেই তখন তা বন্ধ হয়ে যায়। তাই আর বুঝতে ভূল করিনি যে অবশ্যই এই মহাবিশ্ব তথা চাঁদ সূর্য যে প্রতিদিন অনবরত ঘুরছে, এগুলিকে ঘুরানে ওয়ালা একজন অবশ্যই আছেন। তিনিই হলেন আমার আল্লাহ।

৫। বিশ্ববিক্ষাত বিজ্ঞানি আইজ্যেক নিউটন আল্লাহর পরিচয় দেন এভাবে যে, বিশ্বের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের উপর দিয়ে স্থান ও কালের হাজার হাজার বিপ্লব অতিক্রম করেছে। তা সত্বেও তাতে যে শৃঙ্খলা ও সুনিয়ন্ত্রণ পরিলক্ষিত হয়, তা একজন নিয়ন্ত্রক ছাড়া সম্ভব নয়। এই নিয়ন্ত্রকই হলেন সত্তা, জ্ঞানবান ও শক্তিমান মহান আল্লাহ।

৬। মিশিগান স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্ষাত অধ্যপক ড. ইরাভিং ইউলিয়াম বলেন, আমি আল্লাহতে বিশ্বাসী, কারণ সর্বপ্রথম ইলেক্টন অথবা প্রোটিন এমনি সর্ব প্রথম প্লোটোপ্লাজম অথবা সর্ব প্রথম পরমাণু কিংবা প্রথম এমিনো এসিড বা সর্ব প্রথম বীজ অথবা সর্ব প্রথম মস্তিস্ক তন্ত্রের অস্তিত্বের মূলেই আল্লাহর অস্তিত্ব প্রকাশ পায়।

৭। প্রক্ষাত সৌরবিজ্ঞানী হাবাট স্পেন্সার বলেন, আমরা সৃষ্টির গোপন রহস্য উদঘাটনে যতই মনোযোগী হচ্ছি ততই এমন এক চিরন্তন সত্তার অস্তিত্ব সুস্পষ্ট ভাবে প্রতিভাত হয়ে উঠে যার বদান্যতায় সৃষ্টিকুলের অস্তিত্ব সম্ভব হয়েছে। ফ্রান্সিস বেকন বলেন, বিজ্ঞানের অল্প জ্ঞান মানুষকে নাস্তিক বানায় কিন্তু বিজ্ঞানের গভীর জ্ঞান তোমাদেরকে সর্বসক্তিমান আল্লাহ বিশ্বাসী বানায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Discover more from Islamic History

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading