এ সময় তুফায়েল ইবনে আমর দাউসী, যিনি খুবই সম্ভ্রান্ত এবং নিজ গোত্রের নেতা ছিলেন, নবী করীম (সাঃ) এর নিকট এসে উপস্থিত হলেন এবং ইসলামের প্রকাশ্য সত্যতা ও নবীজীর স্বভাব-চরিত্র দেখে স্বেচ্ছায় ও সানন্দে ইসলাম কবুল করে নিলেন। তিনি হুযূরে আকরাম (সাঃ) এর নিকট আবেদন জানালেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার গোত্রে আমার প্রতিটি কথা মেনে নেওয়া হয়। আমি গিয়ে তাদের নিকট ইসলামের দাওয়াত দেব। কিন্ত আপনি আল্লাহর নিকট দোয়া করুন, আল্লাহ তা\’আলা যেন আমার সাথে এমন কোনো প্রকাশ্য নিদর্শন দিয়ে দেন, যার দ্বারা আমি তাদের নিকট আমার কথা সত্য বলে বিশ্বাস করাতে সক্ষম হব।
নবী করীম (সাঃ) তাঁর জন্য দোয়া করলেন। ফলে আল্লাহ তা\’আলা তাঁর কপালে এমন এক আলো উজ্জ্বল করে দিলেন, যা অন্ধকারে উজ্জ্বল দীপ্তিমান প্রদীপের মতো জ্বলজ্বল করতে থাকত।
হযরত তুফায়েল ইবনে আমর (রা.) যখন নিজ সম্প্রদায়ের নিকট ফিরে এলেন, তখন তাঁর এ কথা মনে জাগল যে, আমার সম্প্রদায় আবার এ নূরকে কোনো আপদ বা রোগ-বালাই ভাববে না তো, একথা বলবে না তো যে, ইসলাম কবুল করার কারণে আমার উপর এ রোগ জেঁকে বসেছে। তাই তিনি দোয়া করলেন, যেন এ নূর তাঁর চাবুকে চলে আসে। আল্লাহ তা\’আলা তাঁর দোয়া কবুল করলেন এবং কপালের নূরকে তাঁর চাবুকে ঝুলন্ত লণ্ঠনের মতো করে দিলেন।
তিনি তাঁর সম্পদ্রায়ে ফিলে এসে দ্বীন প্রচার করেত লাগলেন। তাঁর প্রচেষ্টায় কিছু লোক ইসলাম কবুল করলেন। কিন্তু তাঁর ধারণা মাফিক তা যথেষ্ট ছিল না। তাই তিনি নবী করীম (সাঃ) এর নিকট এসে বললেন, আপনি আমার জন্য দোয়া করুন, যেন আমার চেষ্টা সফল হয়। রাসূলে মাকবুল তাঁর জন্য দোয়া করলেন এবং বললেন, \”যাও, এখন দ্বীন প্রচার করতে থাক এবং নম্রতা বজায় রেখ।\”
হযরত তুফায়েল ইবনে আমর (রা.) নিজ সম্প্রদায়ের নিকট ফিরে এলেন এবং লোকজনকে ইসলামের দিকে ডাকতে লাগলেন। এবার তিনি আল্লাহর মেহেরবানিতে এমন সফল হলেন যে, খন্দকের যুদ্ধের পর সত্তর-আশিটি পরিবারকে মুসলমান বানিয়ে খায়বারের যুদ্ধে তাদেরকে সাথে নিয়ে এলেন এবং তাঁরা সবাই জিহাদে অংশগ্রহণ করলেন।
-[সীরাতে মুগলতাই, রচনায় হাফেয আলাউদ্দীন, পৃষ্ঠা-]